বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
এক বিন্দু অক্সিজেন মানুষকে বাঁচাবে, এক টুকরো স্বপ্ন শিশুকে বাঁচাবে ! শৈশব পেড়িয়ে কৈশোর দেখিনি, কালকে আমার বিয়ে! শোকের মাসে জবি সাংবাদিকদের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যক্রমে ফলাফল স্থগিত বামনায় সাংবাদিকদের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ চরাঞ্চল ঘুরে করোনা টিকার ফ্রি নিবন্ধন করাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান চরফ্যাশনে যুবককে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ তৃতীয় দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরেছে জবি শিক্ষার্থীরা “সেরা রাঁধুনীতে ফাষ্ট রানার্স আপ নাদিয়া নাতাশা” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে করোনা মোকাবিলায় মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদল, শপথ নিলেন ৪৩ মন্ত্রী

যুবলীগের চেয়ারম্যান হচ্ছেন পরশ, সাধারণ সম্পাদক হবেন কে

আলোরদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৫১ বার পড়া হয়েছে

বড় কোনো অঘটন না ঘটলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশই হচ্ছেন আওয়ামী যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান। তিনি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার কালরাতে শেখ ফজলে শামস পরশের বাবা-মাও শহীদ হয়েছিলেন। তার ছোট ভাই ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসনের এমপি।

অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস প্রস্তুতির কার্যক্রম দেখেছেন। ওই সময়ে তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি গতকাল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়েও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা মনে করছেন যে শেখ ফজলে শামস পরশই যুবলীগের চেয়ারম্যান হচ্ছেন।

এদিকে অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ গতকাল রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন এবং এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি।

তবে গুজব-গুঞ্জন থেমে নেই। সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের দৌড়-ঝাঁপ দিচ্ছেন। কেউ কেউ অন্য সব দিনের মতো গতকালও গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোয়া নিয়েছেন। তাদের সমর্থক নেতাকর্মীদেরও আগ্রহের কমতি নেই। তারাও পছন্দের নেতার পক্ষে চুলচেরা বিচার বিশ্নেষণ করছেন। তবে গতকাল বেলাল হোসাইন ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহির সম্ভাবনা নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। এ পদে প্রার্থী তালিকায় আরও আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য আতাউর রহমান আতা, যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুর আলম শাহীন, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার।

যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের নীতিনির্ধারক নেতারা আগেই স্পষ্ট করে বলেছেন, দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিতদের আর ঠাঁই হবে না যুবলীগে। সৎ, যোগ্য, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয়রাই আসবেন এই সংগঠনের নেতৃত্বে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ খুঁজে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ কংগ্রেসের দ্বিতীয় পর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে। আর আলোচিত নেতারা নতুন নেতৃত্বে এলে যুবলীগের চলমান কলঙ্ক কিছুটা হলেও মুছবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ত শীর্ষ নেতাদের ধারাবাহিক গ্রেপ্তার ও বয়কটের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে দেশজুড়ে আলোচনার পুরোভাগে রয়েছে যুবলীগ। দুর্নীতির কারণে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধের তালিকায়ও উঠেছে এই সংগঠনের কয়েকজন প্রশ্নবিদ্ধ নেতার নাম। এ সব কারণে গত সেপ্টেম্বর থেকে রাজনীতির নানা হিসেব-নিকেশও বদলে গেছে। দুর্নীতির তৃণমূল উপড়ে ফেলে যুবলীগে শতভাগ পরিচ্ছন্ন রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হচ্ছে।

এমন অবস্থায় প্রচণ্ড ইমেজ সংকটে থাকা যুবলীগের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলার প্রায় ২৮ হাজার কাউন্সিলর এবং ডেলিগেটস আজ শনিবার সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই কংগ্রেস উদ্বোধন করবেন। কংগ্রেস মঞ্চে থাকবেন ২১ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য, পাঁচজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নয়জন সাংগঠনিক সম্পাদক, উত্তর-দক্ষিণ শাখার চারজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশও কংগ্রেস মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারেন। নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য বেলা ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হবে। সেই সঙ্গে সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণার প্রস্তুতিও রয়েছে।

মোট কথা, কংগ্রেসের মাধ্যমে যুবলীগকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলার আভাস পাওয়া গেছে। সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলনও ঘটবে কংগ্রেসে। অর্থাৎ দুর্নীতি ও নানা অপকর্মে জড়িত বিতর্কিত নেতারা নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়বেন। নতুন নেতা নির্বাচনের বেলায় সৎ, দক্ষ, ত্যাগী, পরীক্ষিত, শিক্ষিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। তাদের বয়স হবে ৫৫ বছরের মধ্যে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর তারুণ্যনির্ভর যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের মধ্যে আমির হোসেন আমু এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমও যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন। অব্যাহতি প্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীও বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মীয়। যুবলীগ প্রতিষ্ঠার সময়ে শেখ ফজলুল হক মনির বয়স ছিল ৩২ বছর। অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশের বয়স ৫১।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© 2020 সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আলোরদেশ লিমিটেড। এই সাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া কপি করা বেআইনি।
প্রযুক্তি সহযোগিতায়ঃ UltraHostBD.Com
RtRaselBD