মহানগর দক্ষিন যুবলীগের নেতৃত্ব : চমক হিসেবে থাকতে পারে সাবেক ছাত্রনেতারা

0
2227
মহানগর দক্ষিন যুবলীগে শীর্ষপদ প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতারা । -আলোর দেশ

আলোর দেশ, ঢাকা :

আগামী ২৩ নভেম্বর (শনিবার) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ৭ম সম্মেলন । এর পরপরই ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সম্মেলন হবে বলে আশা বাধছেন নেতাকর্মীরা। মহানগর দক্ষিন যুবলীগের নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রনেতারা চমক হিসেবে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির একাধিক নেতা।

দেশের স্বনামধন্য অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা মহানগর দক্ষিন এলাকায় অবস্থিত। অনেক নেতাকর্মীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মহানগর কিংবা থানায় থেকে দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি করে তাদের ভিত্তিপ্রস্তর শক্ত করে যুবলীগে আসছেন।এই সাবেক ছাত্রনেতারা যুবলীগে এসেও যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া, সাম্প্রতি সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কমিটিগুলোতে যারা নেতা হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই ছাত্র রাজনীতি করে আসছেন। তাই সাবেক ছাত্রনেতারা যুবলীগেরও শীর্ষপদে স্থান পাবেন বলে আশা করছেন নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে যুবলীগের প্রার্থী হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতারা।

দুর্নীতি, ক্যাসিনো, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজীসহ নানা অপকর্মে যুক্ত থাকায় সমালোচিত হয়েছেন সংগঠনটির একাধিক নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশে শুদ্ধি অভিযানে এমন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় গ্রেফতার ও সংগঠন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন অনেকে। এ কারণে এবারের সম্মেলনে পদপ্রত্যাশী অনেক নেতা প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে ভয়ে আছেন। তবে এর মাঝে সাবেক ছাত্রনেতারা ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীরা অনেকটাই চাঙ্গা। তারা নিয়মিত দলীয় প্রোগ্রাম করে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত পার্টি অফিসে অসছেন। নানা উপায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসার চেষ্টা করছেন পদ প্রত্যাশীরা।

সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, এমন ব্যক্তির সংখ্যা কম। যুবলীগের বর্তমান রাজনীতিতে যেসব সাবেক ছাত্রনেতারা সক্রিয়, তাদের নিয়ে আলোর দেশ -এর এই প্রতিবেদন ।

শীর্ষপদ প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতারা :

গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু : তিনি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক । এর আগে সরকারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান মাকসুদ : তিনি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ সাইমন : তিনি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। কবি নজরুল সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন।

সৈয়দ মারশিদ শুভ : তিনি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক উপ স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

খন্দকার আরিফুজ্জামান : তিনি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের উপ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

সোহেল শাহরিয়ার রানা : তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিনের অন্তর্গত বৃহত্তর মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন।

সাইফুল ইসলাম আকন্দ : তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।

এস এম সিরাজুল ইসলাম : তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন।

শাখাওয়াত হোসেন প্রিন্স : তিনি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সহ-সম্পাদক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ছিলেন।

মশিউর রহমান সুমন : তিনি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সহ-সম্পাদক। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

হিমেলুর রহমান হিমেল : তিনি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সহ-সম্পাদক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

ফুয়াদ হাসান পল্লব : তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

এবারের নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অপকর্ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ও অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনো ভাবেই নেতৃত্বে না আসতে পারে এমন দাবি জানান সংগঠনটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ক্লিন ইমেজধারী সৎ, অভিজ্ঞ, দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের অধিকারি এমন নেতা চায় তৃনমূল।

শেয়ার করুন…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here