ফরিদপুরের বরকত-সাইফুল বাহিনীর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ মানুষ, থানায় মামলা

0
957
বরকত ও রুবেল। আলোর দেশ।

স্টাফ রিপোর্টার :

‘বরকত ও সাইফুল’ বাহিনী ফরিদপুর জেলা শহরের জনমনে এক আতঙ্কের নাম। তাদের আরেক সহকারী রুবেল। এদের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, মারপিট, হত্যা এই বাহিনীর নিত্য দিনের ঘটনা। এছাড়ও নানা অভিযোগের পাহাড় তাদের বিরুদ্ধে। তাদের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ পুরো এলাকাবাসী। এরা যে রাজনীতিক পরিচয়ে এসব কর্মকাণ্ড করছে সেই পদ থেকে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানান সচেতন মহল।

বরকত ও রুবেল মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জাহিদ হোসেনের খোকনের ভাগিনা এবং সাইফুল ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

ইতোমধ্যে সাংগঠনিক ক্ষমতা বলে এবং বরকত-রুবেলেরে ছায়া তলে থেকে এল.জি.আর.ডি এর নির্বাহী অফিসার ফারুক হোসেন কে মদ, টাকা আর মেয়ে মানুষ দিয়ে লোভ লালসায় ফেলে এল.জি.আর.ডি এর ভুয়া প্যাকেজ, ভুয়া টেন্ডারের কাজ বানিয়ে ২৫-৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আচে সাইফুলের বিরুদ্ধে ।

এছাড়াও ঢাকা কাউন্টার দখল করে চাঁদাবাজি করার লক্ষ্যে সাইফুল তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে স্ব শরীরে অম্বিকাপুর আওয়ামিলীগের সভাপতি কুদ্দুস শেখ এর ছোট ভাই ছোটন কে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। মার্ডার এর পর থেকে প্রতিদিন সকল কাউন্টার হতে ৪৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি হিসেবে তুলে সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে সাইফুল।

শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালে বড় ভাই ছোট ভাই ডাকা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের মেধাবী ছাত্র মেহেদী হাসান আলিফের চোখে ভ্রমর ঢুকিয়ে তার একটি চোখ নষ্ট করে দেয় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ও তার সহকর্মী সুপ্ত। নির্মম এই ঘটনায় চিরদিনের মতো একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারায় আলিফ।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামিলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক জনাব দীপক কুমার কে প্রকাশ্যে দিবালোকে সাইফুল তার বাহিনি নিয়ে নির্মম ভাবে মাথায় আঘাত করে যার ফলে তার ভীষণ ইন্জুরি হয় এবং কিছুদিন মৃত্যুর সাথে লড়ে এই ত্যাগী আওয়ামিলীগ নেতা।

এছড়াও সাইফুলের কুকর্মের প্রতিবাদ করায় ফরিদপুর জেলা আওয়ামিলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জনাব এ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান বাবুল কে প্রকাশ্যে তার হাতুড়ি বাহিনী নিয়ে পুলিশ লাইনের সামনে হত্যার চেষ্টা করে। সাইফুল ও তার বাহিনী মিলে সে সময় তার হাত পায়ের রগ কেটে দেয়।

এভাবে নানা অপকর্মের মাধ্যমে দিন দিন বিরাট সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে বরকত, রুবেল ও সাইফুল একপর্যায়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা করার অপরাধে মামলা হয় এদের নামে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে পাঁচটি পিস্তল ও ৯১ রাউন্ড গুলি, দুইটি শর্টগান ও ১৮০টি কার্তুজ, ছয় বোতল বিদেশী মদ, ৬৫ পিস ইয়াবা, খাদ্য অধিদপ্তরের ১২শ বস্তায় ৬০ হাজার কেজি চাল, ৩ হাজার ইউএস ডলার, ৯৮ হাজার ভারতীয় রুপি ও বাংলাদেশী ২৯ লাখ টাকা ও পাঁচটি পাসপোর্ট জব্দ করে। এবং তদন্তের মাধ্যমে তাদের সকল অপকর্মের প্রমান পাওয়া যায়। এ মামলায় সাইফুল গ্রুপের সঙ্গী রুবেল ও বরকত আটক হলেও দীর্ঘদিন পলাতক রয়েছে সাইফুল।

এ বিষয়ে অপরাধী সাইফুলকে একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শুবলকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাসুদ বলেন, “একটা গ্রুপ খুব ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটালো। এর সাথে বরকত, নাজমুল, নারায়ণ চক্রবর্তী, মামুনসহ আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর রুবেল প্রেসক্লাবের সভাপতি। তার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। আর সাইফুল যেহেতু জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বহিষ্কারের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের।”

সাইফুলের বিরুদ্ধে কি সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নিবে জানতে গেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা যায়নি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের এসপি  জনাব আলিমুজ্জামনান বলেন, “এসব ঘটনার দায়ে রুবেল ও বরকতকে আমরা গ্রেফতার করেছি। সাইফুল পলাতক আছে তাকে ধরতে প্রশাসন কাজ করছে। তাছাড়া এসব ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আমরা আইনের আওতায় আনবো। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here