নির্দেশনা না বোঝার ভান ধরে বাণিজ্যিক কোর্স চালিয়ে যাচ্ছে জাবি

0
41

আলোর দেশ ডেস্ক :

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক কোর্সসমূহ ‘সান্ধ্যকালীন কোর্স’ নামে পরিচালিত হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ‘সাপ্তাহিক কোর্স’ নামে পরিচালিত হচ্ছে। এই নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ১৫টি বাণিজ্যিক কোর্স চালু রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব কোর্স বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা সত্ত্বেও শুধুমাত্র নামের ভিন্নতার কারণে তা মানতে নারাজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

‘অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন দিনে সরকারি আর রাতে বেসরকারি চরিত্র ধারণ করেছে’, গত ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের এমন মন্তব্যের পর সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করাসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নীতির ক্ষেত্রে ১৩ দফা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয় ইউজিসি।

গত ১১ ডিসেম্বর এসব নির্দেশনা সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কাছে। বিষয়টি জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। এর পরের দিন (১২ ডিসেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে আর সান্ধ্যকালীন (বাণিজ্যিক) কোর্সে ভর্তি নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে এই বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না জাবি কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে নতুন করে এই কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অর্থনীতি বিভাগ ও ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। মূলত, সান্ধ্য কোর্স ও সাপ্তাহিক কোর্সের মধ্যে নামের যে ফারাক এ থেকেই পার পেতে চায় কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সান্ধ্য কোর্সের আদলে ১৫টি বাণিজ্যিক প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এসব কোর্সে ভর্তিকৃত প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোর্সভেদে ৯৫ হাজার থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা নেয়া হয়। এ টাকার ৪০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা হয়। এ অর্থ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা-ব্যক্তিরা সম্মানী নিয়ে থাকেন।

সান্ধ্য কোর্সের এ অর্থ থেকে প্রতিমাসে উপাচার্য ৫০ হাজার, উপ-উপাচার্য ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার, কোষাধ্যক্ষ ৩৫ হাজার ও রেজিস্ট্রার ২৫ হাজার টাকা করে সম্মানী পান। এ হিসাবে গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগার থেকে ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

আর উইকেন্ড প্রোগ্রামে ক্লাস নেয়া অধ্যাপকেরা প্রতি ৪ মাসের কোর্স শেষে পান ৯৫ হাজার ও সহযোগী অধ্যাপকেরা পান ৮৫ হাজার টাকার মতো। সে হিসাবে একজন অধ্যাপক এখানে ক্লাস নিয়ে প্রতিমাসে ২৩ হাজার টাকার মতো সম্মানী পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে এসব কোর্সের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামমাত্র সম্মানী পেয়ে থাকেন।

এদিকে কোনো বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের বাণিজ্যিক কোর্সে সেশনজট নেই বলে জানা গেছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাণিজ্যিক কোর্সের প্রতি বেশি মনযোগী শিক্ষকরা। যে কারণে নিয়মিত কোর্সে সেশনজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া ইউজিসির নির্দেশনার পরে এই বাণিজ্যিক কোর্স চালু রাখাটা অনুচিত বলে মনে করছেন তারা। তবে ইউজিসির নির্দেশনাকে জাবির বাণিজ্যিক কোর্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মনে করছে না জাবি কর্তৃপক্ষ। নামের পার্থক্য ছাড়াও কোর্স পরিচালনার সময়ের পার্থক্যকে নির্দেশ করছেন তারা।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ইউজিসি নির্দেশ দিলে বাণিজ্যিক কোর্স অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এর আগে ইউজিসি যে নির্দেশনা দিয়েছিল সেখানে সান্ধ্যকালীন কোর্সের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সান্ধ্যকালীন কোর্সের সাথে আমাদের এখানকার বাণিজ্যিক কোর্সের নাম এবং ক্যারেক্টারে পার্থক্য রয়েছে। তবে এ নিয়ে ইউজিসি নির্দেশনা দিলে আমরা এটি বন্ধে ব্যবস্থা নেব।’

এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বৃহস্পতিবার বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক কোর্স নিয়ে আলাদাভাবে আমাদের কমিশনে আলোচনা হয়নি। তবে যদি মনে করা হয়, সান্ধ্যকালীন কোর্স আর এই সাপ্তাহিক কোর্সের মধ্যে পার্থক্য নেই তাহলে আলোচনা করা হবে।

আর এই কোর্সের মধ্যে যদি চরিত্রগত পার্থক্য নাই থাকে তবে লেইম এক্সকিউজ দিয়ে কেউ পার পেয়ে যাবে এটা কাঙ্খিত না। ইউজিসির নিজস্ব বা কোনো ব্যক্তিস্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত আমরা নেইনি। দেশের উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ইউজিসি এসব কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধুমাত্র নামের পার্থক্যের কারণে বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ করা যাবে না এমন কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় থেকে বলাটা অনুচিত।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here