সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
এক বিন্দু অক্সিজেন মানুষকে বাঁচাবে, এক টুকরো স্বপ্ন শিশুকে বাঁচাবে ! শৈশব পেড়িয়ে কৈশোর দেখিনি, কালকে আমার বিয়ে! শোকের মাসে জবি সাংবাদিকদের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যক্রমে ফলাফল স্থগিত বামনায় সাংবাদিকদের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ চরাঞ্চল ঘুরে করোনা টিকার ফ্রি নিবন্ধন করাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান চরফ্যাশনে যুবককে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ তৃতীয় দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরেছে জবি শিক্ষার্থীরা “সেরা রাঁধুনীতে ফাষ্ট রানার্স আপ নাদিয়া নাতাশা” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে করোনা মোকাবিলায় মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদল, শপথ নিলেন ৪৩ মন্ত্রী

ওয়ান-ইলেভেনে নির্যাতিত ছাত্রলীগ নেতা যুবলীগে আলোচনায়

আলোরদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১২১২ বার পড়া হয়েছে
সোহেল তাজের সাথে ওয়ান-ইলেভেনের সময় নির্যাতিত সোহেল শাহরিয়ার। -আলোর দেশ

আলোর দেশ, ঢাকা :

দুর্নীতি, ক্যাসিনো, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজীসহ নানা অপকর্মে লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব যাচ্ছে কাদের হাতে, সেটিই এখন নেতাকর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামীকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে যুবলীগের সম্মেলন। এর পরপরই ঢাকা মহানগর (উত্তর, দক্ষিন) সম্মেলনের তারিখ পরবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

এসব কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় সমালোচিত হয়েছেন সংগঠনটির একাধিক নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশে শুদ্ধি অভিযানে এমন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় গ্রেফতার ও সংগঠন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন অনেকে। তারুণ্যনির্ভর, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাচ্ছে দলের হাইকমান্ড।

পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীরা সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে যারা বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন- এমন বিতর্কিত নেতাদেরও জায়গা হবে না নতুন কমিটিতে। তাদের পরিবর্তে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বিএনপি-জামাত সময়কালে দলের জন্য ত্যাগ, নির্যাতিত ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর যুবলীগের শীর্ষ পদে এমন নেতাকেও দেখা যেতে পারে, যিনি এর আগে কখনো যুবলীগের সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।

এ কারণে এবারের সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতারা ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীরা অনেকটাই চাঙ্গা। তারা নিয়মিত দলীয় প্রোগ্রাম করে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত পার্টি অফিসে অসছেন। নানা উপায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসার চেষ্টা করছেন পদ প্রত্যাশীরা।

এদিকে ,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের সাথে ওয়ান-ইলেভেনের সময় নির্যাতিত এবং ক্যাসিনো খালেদ ওরফে ল্যাংড়া খালেদের নির্যাতনে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন বৃহত্তর মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সোহেল শাহরিয়ার রানা।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় সোহেল তাজের সাথে পুলিশি নির্যাতনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘদিন ধরে ভাইরাল হয়ে আসছে ছাত্রলীগ নেতা সোহেল শাহরিয়ারের।

যেভাবে দেশান্তরী সোহেল শাহরিয়ার :

জানা যায়, ২০০৮ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাওসার। খিলগাঁওয়ের আমতলা মসজিদ থেকে বের হতেই কাওসারকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ মামলায় অন্যতম আসামি ছিলেন খালেদ মাহমুদ। কিন্তু পরে প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে মামলার সাক্ষী করে তার জায়গায় সোহেল শাহরিয়ারকে আসামি বানিয়ে দেন তিনি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী কানাডা সফরে গেলে খালেদের বিরুদ্ধে দশ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান সোহেল। খালেদের ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নেত্রীকে খুলে বলেন তিনি। তখন খালেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

কানাডায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে সোহেল শাহরিয়ার।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় , কমলাপুর, খিলগাঁও থেকে শুরু করে বৃহত্তর একটি এলাকাজুড়ে বড় ভূমিকা রাখেন ছাত্রনেতা সোহেল শাহরিয়ার। তাকে ঘিরে ছাত্রলীগের একটি প্রজন্ম তৈরি হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে সোহেলকে বড় বাধা মনে করতে থাকেন খালেদ। তাই তিনি মামলায় ফাঁসানোর পাশাপাশি সোহেলের নিজের এবং শ্বশুরের বাসায় নিয়মিত হামলা-ভাংচুর চালাতেন। একপর্যায়ে তার নির্যাতনের কাছে হার মেনে দেশত্যাগ করেন সোহেল। তিনি কানাডা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।বর্তমান তিনি ঢাকায় আছেন।

সোহেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছিলাম। নতুন প্রজন্মকে আদর্শবান করে তোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খালেদের নির্যাতনের কারণে এদেশে থেকে আদর্শবান রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারিনি। উল্টো দেশের মায়াই ত্যাগ করতে হয়েছে। তবে বিদেশে থেকেও রাজনীতির বাইরে থাকিনি।’

২১ আগষ্ট, গ্রেনেড হামলায় আহতদের সাথে সোহেল।

নির্মম খুনের শিকার কাওসারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ খাজা মহসিন বলেন, ‘এলাকার সবাই জানে, কাওসার হত্যায় খালেদ সরাসরি জড়িত। মামলায় তাকে আসামিও করা হয়েছিল। বিস্ময়করভাবে তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেলকে আসামি বানিয়ে নিজেকে মামলার সাক্ষী করে মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেন।’

খালেদের নির্যাতনে দেশান্তরী ছাত্রনেতা সোহেল শাহরিয়ার জানান, ২০১১ সালে দেশত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী কানাডা সফরে গেলে খালেদের বিরুদ্ধে মিনিট দশেক কথা বলার সুযোগ পান সোহেল। খালেদের ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নেত্রীকে খুলে বলেন তিনি। তখন খালেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, ক্ষুব্ধ মহসিন বলেন, তার দাদা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুবই ঘনিষ্ঠ সহচর। ১৯৫৪ সালে যখন বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্টের সংস্কৃতিমন্ত্রী, তখন তার দাদা এ কে রফিকুল হোসেইন ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। এমন ঐতিহ্যবাহী পরিবারের উত্তরাধিকার হয়েও তাদের আত্মগোপনে থাকতে হয় এই খালেদের কারণে। এর চেয়ে বিস্ময়কর আর কী হতে পারে! খালেদের কারণে দলে কাঙ্ক্ষিত পদও পাননি বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© 2020 সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আলোরদেশ লিমিটেড। এই সাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া কপি করা বেআইনি।
প্রযুক্তি সহযোগিতায়ঃ UltraHostBD.Com
RtRaselBD