মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
এক বিন্দু অক্সিজেন মানুষকে বাঁচাবে, এক টুকরো স্বপ্ন শিশুকে বাঁচাবে ! শৈশব পেড়িয়ে কৈশোর দেখিনি, কালকে আমার বিয়ে! শোকের মাসে জবি সাংবাদিকদের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যক্রমে ফলাফল স্থগিত বামনায় সাংবাদিকদের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ চরাঞ্চল ঘুরে করোনা টিকার ফ্রি নিবন্ধন করাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান চরফ্যাশনে যুবককে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ তৃতীয় দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরেছে জবি শিক্ষার্থীরা “সেরা রাঁধুনীতে ফাষ্ট রানার্স আপ নাদিয়া নাতাশা” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে করোনা মোকাবিলায় মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদল, শপথ নিলেন ৪৩ মন্ত্রী

অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আলোরদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা। -আলোর দেশ

আলোর দেশ, ঢাকা :

কোভিড-১৯ মাহামারীতে যখন সারাবিশ্ব থমকে আছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ৯ দিন পর ১৭ মার্চ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সরকার। একাডেমিকভাবে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পরা চিন্তা করে সরকারি-বেসরকারি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে একাডেমিক কার্যাক্রম চালু করে। অনলাইন ক্লাসের সুফল-কুফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষা কার্যাক্রমকে কিভাবে দেখছেন তা নিয়ে আলোর দেশের -এ আয়োজন।

মোঃ মেহেদী হাসান আরিফ (মনোবিজ্ঞান বিভাগ) :
প্রায় সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ তারিখ থেকে জবিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এখন প্রায় সকল শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকার ফলে অনেকে ইন্টারনেট জনিত সমস্যায় পরছে। বাড়িতে নেটওয়ার্ক না থাকার ফলে অনেকে বাড়ির ছাদ, মাঠে, বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করতে হচ্ছে। বার বার ডিসকানেক্ট হয়ে যাচ্ছে, অডিও ভিডিও ভালোভাবে বুঝা যাচ্ছে না, ফলে পাঠিত বিষয়টিতে মনোযোগ রাখা যায় না বা বুঝা যায় না। প্যাক্টিক্যাল বা গনিত ক্লাসগুলো অনলাইনে করাটা কষ্টকর। দুর্বল নেটওয়ার্কের কারনে অনেকে ক্লাসই জয়েন করতে পারছে না। ঠিকমত এটেইনডেন্স পাচ্ছে না। অনেকের কোন স্মার্ট ডিভাইস নেই,আর্থিক অবস্থার বেহাল দশার মধ্যে উচ্চ মূল্যর ইন্টারনেট কেনাটা সকলের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ হয়ে দারিয়েছে। এমতাবস্থায় আশার কথা হলো যে বহুদিন পরে সবাই ক্লাস করতে পারছে। যথা সময়ে কোর্স শেষ নিয়ে সৃষ্ট দ্বিধা দ্বন্দ্ব একটু হলেও দূর হবে। পরিশেষে সকলের ইন্টারনেট জাতীয় সমস্যা সমাধান করে যদি কতৃপক্ষ অনলাইন ক্লাসে যেত তাহলে সবার জন্য কল্যানকর হতো।

আরজু মান্দ বানু নিশি (নৃবিজ্ঞান বিভাগ) :
অনিশ্চয়তার এই পৃথিবীতে অনলাইন ক্লাস কতটা যৌক্তিক? তবে, সেশনজট কিছুটা হলে ও কমানো সম্ভব হবে এর মাধ্যমে।কিন্তু এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও অসুবিধার কথা ভাবতে হবে। কিছু গ্রামে এখনো নেটওয়ার্ক সংযোগ যথেষ্ট নয় এবং অনেকের কাছে ভালো স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ও নেই।আবার ইতিমধ্যে আমাদের দেশের মোবাইল অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।এছাড়া, যেসব শিক্ষার্থীরা টিউশনি ও পার্ট টাইম জব করে নিজেদের খরচ বহন করতো তাদের এই আয়ের উৎস এখন বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া, অনেক পরিবারে আর্থিক অসচ্ছলতা দেখা দেওয়ার ফলে তারা মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। তাদের কাছে এই মুহুর্তে অনলাইন ক্লাস মানষিক চাপের সৃষ্টি করবে। তাই আমি বিষয়টি নিয়ে আরো ভাবনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।

সাইদুল ইসলাম সাঈদ (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট -আই ই আর) :
শরবত বানাতে যেমন চিনির প্রয়োজন তেমনি শ্রেণীকক্ষ ছাড়া শিখন-শিক্ষণ কার্যক্রম অনেকটাই অসম্পূর্ণ। আর আমরা জানি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই গ্রাম বা মফস্বল থেকে আসা, এই করোনা কালীন সময়ে যে যার গ্রাম বা বাড়িতেই অবস্থান করছে, সুতরাং ইন্টারনেটের সুব্যবস্থা থেকে অনেকেই বঞ্চিত। পারিবারিক এবং আর্থিক সমস্যার কারণে ম্যাটেরিয়ালস অর্থাৎ স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের কথা বাদই দিলাম। অতএব আমরা তাকালেই দেখতে পাই যে, এ ব্যাপার গুলো নিয়ে গরীব বা আর্থিক ভাবে অসচ্ছ্বল শিক্ষার্থীরা খুবই হতাশার মধ্যে ডুবে আছে। আবার যারা ক্লাস করছে তারা আগের মত ক্লাসে মনোযোগী থাকছেনা এবং বিভিন্নভাবে হাস্যরসাত্মক কাজে ব্যস্ত। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা
কিছুটা হলেও বাসায় বসেই পড়ার কনটেন্ট সম্পর্কে অবগত বা সচেতন থাকছে। সার্বিকদিক পর্যালোচনা করে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, কর্তৃপক্ষকে অনলাইন ক্লাসকে সীমিত করে করোনার প্রতিকার, প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কিছু নিয়ম বাধ্যতামূলক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া উচিত।

বাণী চৌধুরী (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ) :
করোনাকলীন এই দীর্ঘ কোয়ারান্টাইন সময় আমরা অবসরে দিন কাটাচ্ছি। এটা কবে শেষ হবে তা আমরা কেউ বলতে পারছিনা। এমন অবস্থায় যদি চলতে থাকে তবে আমরা পড়াশুনায় অনেক পিছিয়ে পরব। তীব্র সেশন জোটের সম্মুখিন হতে হবে। তাই জবিসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অন লাইন’ ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে সামনে আগাতে চাচ্ছে। আমি মনে করি এটা সময় উপযোগী বেস্ট চিন্তাভাবনা। তবে অনেক শিক্ষার্থীর নেটওয়ার্কে সমস্যা। ফলে তারা ঠিক মতো ক্লাস করতে পারবেনা। এখন যদি ক্লাস হয় সবাই অংশগ্রহণ করতে না পারে তবে একটা বৈষম্যের সৃৃষ্টি হবে। কিন্তু যদি শিক্ষকরা তাদের লেকচার ভিডিও করে ডিপার্টমেন্টের গ্রুপ/পেজে দিয়ে দেয় তবে সবাই যে কোন সময় তা দেখতে পারবে। কিন্তু উপস্থিতির উপর যদি এক্ষেত্রে নাম্বার দেওয়া হয় তবে এ সময়ের পরিপেক্ষিতে সবাইকে সমান নাম্বার দেওয়াটা ঠিক হবে বলে আমি মনে করি।

সৈয়দ মুমিনুল ইসলাম পুস্পন (পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ) :
কোভিড-১৯ এর জন্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে এত্তদিন দূরে থাকে, তাহলে আমাদের অনিশ্চিত সেশনজটের সম্মুখীন হতে হবে। সেক্ষেএে অনলাইন ক্লাস আমাদের অনেকটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কথা হচ্ছে অনলাইন ক্লাস প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সহজেই চালিয়ে নিতে পারে, সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি, তারা বেশিরভাগই গ্রাম অঞ্চল থেকে উঠে আসা দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী, তাদের পক্ষে অংশগ্রহন করে ইন্টারনেট খরচের জন্য যতটা টাকা প্রয়োজন হয়, তা বহন করা কষ্টসাধ্য।আমাদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে গত রবিবার থেকে নিয়মিত অনলাইন ক্লাস হচ্ছে যেখানে অনেকেই সমস্যাজনিত কারণে উপস্থিতি ৬০% এর মতো লক্ষ করা যাচ্ছে। শিক্ষকরা যদি অনলাইন ক্লাসের লেকচার পরবর্তিতে ইউটিউব অথবা গুগলড্রাইভ এ আপলোড দিয়ে দেয়, তাহলে যারা তাৎক্ষনিক অংশগ্রহণ করতে পারেরি, তারা পরবর্তিতে সংগ্রহ করে নিতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

ফৌজিয়া বন্যা (কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) :
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট এখনও কি অনলাইন ক্লাসের জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠেছে?এই করোনা মহামারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের হাতে অনলাইনে ক্লাস করার জন্য পর্যাপ্ত ডিভাইস নেই। আবার যাদের পর্যাপ্ত ডিভাইস আছে কিন্তু তারা সবাই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন নাহ। তার উপর দেখা যাবে একমাস অনলাইনে ক্লাস করতে হলে অন্ততপক্ষে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনতে হবে। এদিকে চলতি বাজেটে আরও ১০% ভ্যাট বাড়িয়ে ২৫% করা হয়েছে।যেটা নিঃসন্দেহে অনেকের জন্যই সামর্থ্যের বাইরে। এছাড়াও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকা বন্যার কবলে।ফলে ওইসব এলাকার বাড়িঘর পানির নিচে এবং মোবাইল অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্কের অবস্থা খুবই শোচনীয়। ফলস্বরূপ অনেকে অনলাইন ক্লাসে যোগদান করতে পারবে নাহ।এতে করে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করতে না পেরে অনেকাংশে পিছিয়ে পড়বে।অন্যদিকে করোনা মহামারিতে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিপার্টমেন্টে সেশনজট বাড়ছে। এভাবে সেশনজট বাড়লে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়ে যাবে। তাই আমি বলতে চাই, অনলাইনে ক্লাস করার জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অনলাইন ক্লাসের উপর ভিত্তি করেই সেমিস্টার শেষ না করা, পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে অনলাইন ক্লাসের পড়ানো টপিক নিয়ে বিস্তর আলোচনার করা। এছাড়া ল্যাব ক্লাসগুলো এবং ল্যাব নির্ভর কোর্সগুলো অনলাইন ক্লাসের আওতাভুক্ত না করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত সর্বদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

বনি ইয়ামিন রাফি (ফার্মেসি বিভাগ) :
করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে পর্যাপ্ত আয়োজন ছাড়া অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছে, এ-ই শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য আরও বৃদ্ধি করবে বলে মনে করি। জবি শিক্ষার্থীদের মতো সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের দুর্বলতার কথা আমরা সবাই জানি। একই সাথে সকলেরই অনলাইনে ক্লাস করার উপযোগী ডিভাইস আছে এমন ভাবাটা বাতুলতা। এই করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন তাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে সেখানে ইন্টারনেটের খরচ বহন করা তাদের উপরে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা ছাড়া কিছু নয়। আগে ইন্টারনেটের সমস্যা সমাধান করে শিক্ষকরা ক্লাসে আসা উচিৎ।

কানিজ রোকসানা (রসায়ন বিভাগ) :
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জবিতে অনলাইন ক্লাস চালু করে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অনলাইন ক্লাস কতটা কার্যকর হবে? কিন্তু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে, যেখানে নেটওয়ার্ক এর অনেক সমস্যা বিদ্যমান। তাছাড়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবার থেকে আসছে। যাদের এই ক্রান্তিকালে দুই বেলা খাবার যোগাতেও পারছে না। তাদের উপর এই অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেয়া বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। যদি ক্লাসটা ফেইসবুক রেকর্ড করে আপলোড ও করে তাতেও সেই ভিডিও নামাতে মাসে মিনিমাম হাজার টাকা লাগবেই, যা একটা দরিদ্র পরিবার এর পক্ষে চালানো সম্ভব নয়৷ কিন্তুএই অবস্থায় যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইন্টারনেট খরচ চালানোর জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করে তাহলে এই মহামারীতেও পড়াশোনা এগিয়ে নিতে পারবে এবং মহামারী পরবর্তী সময়ে সহজেই ক্ষতি টা পুষিয়ে নিতে পারবে। তাই বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ডলি শারমিন (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ) :
করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে প্রায় থমকে গেছে পৃথিবী। স্থবির হয়ে গেছে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত কার্যক্রম। এ পরিস্থিতিতে প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় বড় ধরণের সেশনজট ও শিখন ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। উদ্ভুত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন পাঠদানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে ভীষণভাবে এবং এই মুহূর্তে অনলাইন পাঠদানেরও বিকল্প কিছু নেই। বলা অসংগত নয় যে,দীর্ঘসময় ধরে এভাবে পড়াশোনার বাইরে থাকায় শিক্ষার্থীদের একটা বিশাল অংশ আলস্যে সময় পার করছেন। পাঠ্যবইয়ের এ সংশ্লিষ্টতাহীনতার কারনে তাদের মধ্যে মানসিক দুশ্চিন্তা, হতাশা ও নতুন নতুন সমস্যা ও সংকট তৈরি হচ্ছে। দেখা যায়, এই মুহূর্তে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন পাঠে আগ্রহী হলেও অনেকেই আবার তাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বিষয়টি সহজেই অনুমেয় যে, এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই একটা আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় ভুগছেন।এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে অনেকেই ভালো নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় নেই। ঠিকমতো নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকায় অনেকেই ক্লাসে জয়েন করতে পারছেননা।আবার অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাজেটের পাশাপাশি ইন্টারনেট ডাটা ক্রয় করাকে তারা একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন। শিক্ষার্থীদের এ সমস্যা ও সংকট নিরসনে প্রশাসনের সদিচ্ছা ও শুভদৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এদিক থেকে সহায়তা পেলে অনলাইন পাঠদানের এ প্লাটফর্মে আশা করি সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

সাদিয়া সুলতানা (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ) :
করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে ক্লাস বা পরীক্ষা না থাকায় যেমন আমাদের পড়ালেখার অনাগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে, তেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা ও হতাশারও সৃষ্টি হচ্ছে। কেননা তাদের ক্যারিয়ারের জন্য এই কয়েকটা বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরই জন্য হয়তো অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবার প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর ? কার্যকর হওয়ার পিছনে অন্যতম বাধা হচ্ছে ইন্টারনেটের অপ্রাপ্যতা। তা হতে পারে দারিদ্রতার জন্য আবার হতে পারে গ্রামাঞ্চল তথা ইন্টারনেট না পৌঁছানো বা দুর্বল ইন্টারনেট সুবিধা এমন লোকালয়ের জন্য। ইতিমধ্যে জবিসহ কিছু পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে । দেখা যায় এতে সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় যদি এসব ক্লাসগুলো রেকর্ডের ব্যবস্থা তথা ফেসবুক পেজ বা ইউটিউবে যেকোনো সময় পাওয়া যেত, তবে নিয়মিত অংশ নিতে না পারা এমন শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী ক্লাস গুলো সংরক্ষণ করতে পারত। সকল শিক্ষা কার্যক্রম বা ব্যবহারিক ক্লাস না হয় এখন নাই হোক। আরো ভালো হতো যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সামর্থ্য অনুযায়ী কিছুটা সহায়তা প্রদান করতে পারতো এমন অপারগ শিক্ষার্থীদের জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© 2020 সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আলোরদেশ লিমিটেড। এই সাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া কপি করা বেআইনি।
প্রযুক্তি সহযোগিতায়ঃ UltraHostBD.Com
RtRaselBD