মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
এক বিন্দু অক্সিজেন মানুষকে বাঁচাবে, এক টুকরো স্বপ্ন শিশুকে বাঁচাবে ! শৈশব পেড়িয়ে কৈশোর দেখিনি, কালকে আমার বিয়ে! শোকের মাসে জবি সাংবাদিকদের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যক্রমে ফলাফল স্থগিত বামনায় সাংবাদিকদের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ চরাঞ্চল ঘুরে করোনা টিকার ফ্রি নিবন্ধন করাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান চরফ্যাশনে যুবককে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ তৃতীয় দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরেছে জবি শিক্ষার্থীরা “সেরা রাঁধুনীতে ফাষ্ট রানার্স আপ নাদিয়া নাতাশা” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে করোনা মোকাবিলায় মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদল, শপথ নিলেন ৪৩ মন্ত্রী

২৩ নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলন : শীর্ষপদে আলোচনায় যারা

আলোরদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১৬৬০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি :

<> যুবলীগের সম্মেলন ২৩ নভেম্বর
<> লবিং-তদবির নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ
<> প্রধানমনমন্ত্রীর নজরে আসার চেষ্টা করছে পদপ্রত্যাশীরা
<> বিতর্কিতরা যাতে কমিটিতে না আসে, দাবি তৃনমূলের
<> ক্লিন ইমেজধারী এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের অধিকারি এমন নেতা চায় তৃনমূল

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৭ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওইদিন বেলা ১১টায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘমেয়াদে (টানা তৃতীয়বার) আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায়, এর সুযোগ নিয়ে যুবলীগের অনেক নেতা বানিয়েছেন টাকার পাহাড়। দুর্নীতি, ক্যাসিনো, মাদক ব্যবসা চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজীসহ নানা অপকর্মে যুক্ত থাকায় সমালোচিত হয়েছেন সংগঠনটির কতিপয় নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশে শুদ্ধি অভিযানে এমন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার কারনে গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে। এর সুবাদে সংগঠন থেকে কয়েকজনকে বহিষ্কারও হতে হয়েছে । যারা বহিষ্কার কিংবা গ্রেফতার হননি তারাও আতঙ্কে আছেন । এ কারণে এবারের সম্মেলনে পদপ্রত্যাশী অনেক নেতা প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে ভয়ে আছেন। তবে এর মাঝে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীরা অনেকটাই চাঙ্গা। তারা নিয়মিত দলীয় প্রোগ্রাম করে যাচ্ছেন।নিয়মিত পার্টি অফিসে অসছেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থিতার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন।

এবারের নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অপকর্ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ও অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনো ভাবেই নেতৃত্বে না আসতে পারে এমন দাবি জানান সংগঠনটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ক্লিন ইমেজধারী সৎ, অভিজ্ঞ, দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের অধিকারি এমন নেতা চায় তৃনমূল। আসন্ন সম্মেলনে যুবলীগের হাল ধরবে কারা? দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চায়ের আড্ডায় এমন প্রশ্ন বিশ্লেষন করতে দেখা যায়। এরই মধ্যে শীর্ষপদের (চেয়ারম্যান ও সাধারন সম্পাদক) নেতৃত্বে আসতে পদ প্রত্যাশীরা লবিং-তদবির নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিভিন্ন উপায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসতে চাচ্ছেন পদ প্রত্যাশীরা।

যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় যারা :

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বারের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান যুবলীগের বর্তমান কমিটির ১নং প্রেসিডিয়াম সদস্য। তবে উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি যুবলীগের কোনও প্রোগ্রামে যাননি বলে জানান তিনি। একসম যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। ১/১১ সময়কালে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছিলেন। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পান। এরপর ২০১৭ সালের ২০ মার্চ আবার ২য় মেয়দে উপাচার্যের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারী টিলিভিশনের টকশোতে তিনি যুবলীগের প্রার্থী বলে জানান দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমাকে যুবলীগের দায়িত্ব নিতে বলা হয়, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে উপাচার্য পদ ছেড়ে দিয়ে দায়িত্ব নেব।

মাহবুবুর রহমান হিরণ : যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান হিরণ ২০০৩ থেকে ২০১২ পর্যন্ত যুবলীগের এক নং সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৬ সালে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। মাহবুবুর রহমান হিরণ ভোলা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এজিএস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের সভাপতি, ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের (জালাল – জাহাঙ্গীর) সদস্য ছিলেন।

শহীদ সেরনিয়াবাদ : যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সাইদুর রহমান শহীদ মূলত শহীদ সেরনিয়াবাদ নামে পরিচিত। বিগত কমিটিতেও তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। শহীদ সেরনিয়াবাদ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক এর খালাতো ভাই।

আতাউর রহমান : যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যপদে দায়িত্ব পালন করছেন আতাউর রহমান আতা। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে। তিনিও চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী।

এডভোকেট বেলাল হোসেন : যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট বেলাল হোসেন ২০১৬ সালে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ইতিপূর্বে তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ফারুক হোসেন : যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন ইতিপূর্বে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ফরিদপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা আজম : সাম্প্রতিক ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে যুবলীগের অনেক শীর্ষ নেতা বিতর্কিত হয়ে যাওয়ায় যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি যুবলীগ চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এসেছেন।

এছাড়াও আলোচনায় আছেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপস ও তার বড় ভাই শেখ ফজলে শামস পরশ, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপির ভাই খোকন সেরনিয়াবাদ, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা :

সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার : সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার বর্তমানে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে মানুষের মাঝে শেখ হাসিনার বিচক্ষনতা, মহানুভবতা অর্থাৎ আওয়ামী লীগের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। ১/১১ সময়কালে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে তিনিও রাজপথে ছিলেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড ইঞ্জিনিয়ার্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। আলোর দেশের বরগুনা প্রতিনিধি জানান, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার স্থায়ীভাবে বরগুনা-২ এলাকার অধিবাসী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বরগুনার সুবিধাবঞ্চিত, গরীব, মেহনতি মানুষের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে গেছেন, যেটা করেননি বরগুনা-২ এর সাংসদ । এলাকায় সুভাষ চন্দ্র অসহায় মানুষের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। আসন্ন সম্মেলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘যুবলীগের এ সম্মেলনে আশা করি ক্লিন ইমেজধারী যোগ্য নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। আমাকে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দায়িত্ব দেন তা সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করবো।’ তবে ক্লিন ইমেজ আর সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীলতার কারনে তৃনমূলের কাছে আলোচিত তিনি।

মহিউদ্দিন আহমেদ মহি : যুবলীগের এক নং যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি। তিনি ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। ২০১২ সালের কাউন্সিলে যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে শুধুমাত্র তার নাম ঘোষণা করা হয়েছিলো। মহিউদ্দিন মহি সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি।

ফারুক হাসান তুহিন : ফারুক হাসান তুহিন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তুহিন ২০০৪ সালে সরাসরি ভোটে ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১২ পর্যন্ত ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

মাশরাফি বিন মর্তুজা : বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ক্রীড়াজগৎ থেকে নতুনভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এশেই পান নড়াইল-২ আসন থেকে নৌকার টিকিট, হয়েছেন সংসদ সদস্য।তাকে যুবলীগের চেয়ারম্যান বা সাধারন সম্পাদক পদে বসানো হতে পারে বলে গুঞ্জন ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© 2020 সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আলোরদেশ লিমিটেড। এই সাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া কপি করা বেআইনি।
প্রযুক্তি সহযোগিতায়ঃ UltraHostBD.Com
RtRaselBD