বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
এক বিন্দু অক্সিজেন মানুষকে বাঁচাবে, এক টুকরো স্বপ্ন শিশুকে বাঁচাবে ! শৈশব পেড়িয়ে কৈশোর দেখিনি, কালকে আমার বিয়ে! শোকের মাসে জবি সাংবাদিকদের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যক্রমে ফলাফল স্থগিত বামনায় সাংবাদিকদের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ চরাঞ্চল ঘুরে করোনা টিকার ফ্রি নিবন্ধন করাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান চরফ্যাশনে যুবককে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ তৃতীয় দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরেছে জবি শিক্ষার্থীরা “সেরা রাঁধুনীতে ফাষ্ট রানার্স আপ নাদিয়া নাতাশা” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে করোনা মোকাবিলায় মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদল, শপথ নিলেন ৪৩ মন্ত্রী

সম্পর্কের গল্প ‘কালো জল’ এবারের বই মেলায় চমক

আলোরদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১
  • ১৯২ বার পড়া হয়েছে

এবারের বই মেলায় চমক হিসেবে থাকছে অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত এম মামুন হোসেনের ‘কালো জল’। মামুন হোসেন বর্তমানে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারের বই মেলায়ও তার বই বের হচ্ছে।  সম্পর্কের গল্প নিয়ে লেখা এবারের বইটি।

বইটি সম্পর্কে লেখক জানান,
সম্পর্ক- এই সম্পর্কের ভালোমন্দ আছে। প্রতিটি সম্পর্কের আছে নিজস্ব গল্প। এসব টুকরো টুকরো গল্প নিয়েই জীবন। সরল সম্পর্কের এলোমেলো সমীকরণ কখনো কোথাও জটিল কিংবা যৌগিক। বেলাশেষে সম্পর্কের হিসাব পাকা না হলেই গোল বাঁধে। ‘কালো জল’ সম্পর্কের মিল-অমিলের সমীকরণ।

এম মামুন হোসেন এর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘কালো জল’ প্রচ্ছদ করেছেন দেশ সেরা ধ্রুব এষ। এবারের বই মেলায় বইটি আনছে অনিন্দ্য প্রকাশ। লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘তুপা’ ব্যাপক পাঠক প্রিয় হয়েছিল।

কালো জল-এ বায়ান্ন বাজার তেপান্ন গলির ঢাকার ছেলে হাসানের সঙ্গে সুলতানার সংসার। বউ বাচ্চার পাওয়া কিংবা না পাওয়ার হিসাব নিকাশ। আবার মা-হারা ডা. মাহী, তার শেকড়ের টানে ছুটে চলা। সেখানে পিতা-পুত্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন। মাহীর নতুন চোখে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। আর মায়ার সম্পর্কে রত্না-মাহীর বাঁধা পড়া।
‘কালো জল’ উপন্যাসের শুরুটা এমন।

‘শালায়, পাইলসের জন্য চেয়ারে ঠিকমতো বসবার পারে না, আবার পোলা হইছে! পরপর তিন তিনটা মেয়ে, এখনো বংশরক্ষা হইল না। বন্ধুদের যেখানে একটা, না হয় বড়োজোর দ্ুিট বাচ্চা। আর আমার স্ত্রীরে বছর বছর পোয়াতি কইরাও মনের আশ মিটল না।’ ফেসবুকে ‘কনগ্র্যাচুলেশন’ শব্দটা লিখেই হাসান মনে মনে এইসব বিড়বিড় করছিল।

অন্তর জ্বালা! কারো পৌষমাস আর কারো সর্বনাশ। ফুটফুটে সদ্যোজাত শিশুর ছবি দিয়ে লিখেছে, ‘আবার পুত্রসন্তানের জনক হলাম। রাজপুত্র ও তার মা ভালো আছে। সবাই দোয়া করবেন।’ সবাই গদগদ হয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে জুয়েলকে।

ডা. মাহীর চোখে মুক্তিযুদ্ধ তার দাদার বয়ানে- ‘আমার ছেলে মহিউদ্দিন চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তর সালের সেই কালো দিনগুলোর কথা একদিনের জন্য ভুলে যেতে পারিনি। পাকবাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছে গেল চৌধুরী সাহেবের ছেলে মুক্তি। আমার ছেলেকে না পেলে পুরো গ্রাম তছনছ করে দেবে। এলাকার সবাইকে বাঁচাতে তিন জওয়ান পোলাকে ওদের হাতে তুলে দিলাম। ওই যে বসে আছে রামচন্দ্র, মোহাম্মদ আলী। তাদের ছেলে। আর ইব্রাহীমের ছেলেকে মহিউদ্দিন চৌধুরী বানিয়ে ওদের হাতে তুলে দিলাম। অত্যাচার করে ছেলেগুলোকে মেরে ফেলল। ছেলের মৃত্যুশোকে ইব্রাহীম মারা গেল। আমি সেদিন পাপ করেছি।

রামচন্দ্র, মোহাম্মদ আলী, ইব্রাহীমের পরিবারের কোনো অভাব আমি রাখিনি। কিন্তু ওদের চোখের দিকে তাকাতে পারি না। একটা পাপবোধ আমাকে কুঁরেকুঁরে খায়।
যুদ্ধশেষে আমার ছেলে স্বাধীন দেশে ফিরে এলো। এসব ঘটনা জানতে পারল। তার পিতা অপরাধ করেছে। ভুল করেছে। আমার একমাত্র সন্তান মহিউদ্দিন- আমাকে ছেড়ে চলে গেল।

ওরা শহিদ সন্তানের পিতা। আর আমি পুত্র বেঁচে থাকতেও সন্তানহারা পিতা। এটা কী যে কষ্টের, দুর্বি-সহ যন্ত্রণার। মৃত্যুপথযাত্রী বউমাকে শেষ দেখাটা দেখতে পারিনি। আমার নাতিকে দেখিনি। ওকে আদর করতে পারিনি। জড়িয়ে ধরতে পারিনি। ওর সঙ্গে খেলতে পারিনি। ওর বন্ধু হতে পারিনি। মাহী, দাদুভাই আমার বুকে আয়।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© 2020 সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আলোরদেশ লিমিটেড। এই সাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া কপি করা বেআইনি।
প্রযুক্তি সহযোগিতায়ঃ UltraHostBD.Com
RtRaselBD