বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
এক বিন্দু অক্সিজেন মানুষকে বাঁচাবে, এক টুকরো স্বপ্ন শিশুকে বাঁচাবে ! শৈশব পেড়িয়ে কৈশোর দেখিনি, কালকে আমার বিয়ে! শোকের মাসে জবি সাংবাদিকদের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যক্রমে ফলাফল স্থগিত বামনায় সাংবাদিকদের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ চরাঞ্চল ঘুরে করোনা টিকার ফ্রি নিবন্ধন করাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান চরফ্যাশনে যুবককে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ তৃতীয় দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরেছে জবি শিক্ষার্থীরা “সেরা রাঁধুনীতে ফাষ্ট রানার্স আপ নাদিয়া নাতাশা” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে করোনা মোকাবিলায় মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদল, শপথ নিলেন ৪৩ মন্ত্রী

রাজধানীতে দেড়শতাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে করোনা

আলোরদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

আলোর দেশ, ঢাকা:
দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রাজধানী ঢাকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর অর্ধেকেরও বেশি রাজধানীর বাসিন্দা। সেই সঙ্গে রাজধানীর মৃত্যুর হারও অন্যান্য সব জেলা থেকে বেশি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সারাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৫২ জন। এছাড়া রাজধানীর ১৫৯টি স্থান ও এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) দেওয়া তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

রাজধানীতে এককভাবে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী রাজারবাগ এলাকায়। এই এলাকায় ৯৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় সবাই রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আক্রান্ত পুলিশ সদস্য।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনা ভাইরাস দেশের বাইরে থেকে আসা মানুষের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাই ঢাকাতে এ ভাইরাসের প্রকোপ বেশি থাকাটা স্বাভাবিক। বিদেশ থেকে আসা অনেকেই রাজধানীতে বসবাস করেন। ঢাকার বাইরেও যেসব প্রবাসী থাকেন, তাদের অনেকেই বিমানবন্দরে নেমে প্রথমে কিছুদিন ঢাকাতে ছিলেন। তাদের সংস্পর্শে সংক্রমণ ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর মনে করেন, ঘনবসতির কারণে রাজধানীতে করোনা রোগী বেশি।

তিনি বলেন, ঢাকার মতো জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খুবসহজেই মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সুবিধা দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় ঢাকায় বেশি, সেটিও একটি কারণ। এছাড়া ঢাকার হাসপাতালগুলোর মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।

সবচেয়ে বেশি পুরান ঢাকায়
রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন পুরান ঢাকা এলাকায়। সেখানে সাড়ে ৪০০ বেশি রোগী রয়েছেন। পুরান ঢাকায় সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে লালবাগে। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় ৫৯ জন করোনা রোগী রয়েছে। এর পাশাপাশি আরমানিটোলায় দুইজন, বাবুবাজারে ১১ জন, বংশালে ৪৭ জন, বানিয়ানগরে একজন, বেগম বাজারে একজন, বকশিবাজারে পাঁচজন, চকবজারে ৩২ জন, ধোলাইখালে দুইজন, ফরিদাবাদে একজন, গেন্ডারিয়ায় ২৮ জন, গণকটুলিতে তিনজন, ইসলামপুরে দুইজন, করাতিটোলায় একজন, কলতাবাজারে একজন, কদমতলীতে পাঁচজন, কোতয়ালিতে আটজন, লক্ষ্মীবাজারে নয়জন,মিটফোর্ডে ৩৮ জন, নাজিরাবাজারে সাতজন, নারিন্দায় ১১ জন, নয়াবাজারে সাতজন, নিমতলীতে চারজন, সূত্রাপুরে ১৪ জন, তাঁতীবাজারে দুইজন, সদরঘাটে তিনজন, শাঁখারিবাজারে ২৭ জন, সোয়ারিঘাটে তিনজন, ওয়ারিতে ৩৫ জন, পোস্তগোলায় পাঁচজন, চানখাঁরপুলে ২৩ জন এবং উর্দু রোডে একজন করোনা রোগী রয়েছেন।

রোগী বাড়ছেই মিরপুরে
বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এখন পর্যন্ত এ এলাকায় দেড়শতাধিক করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে। যার মধ্যে মিরপুর ১ নম্বরে ২৬ জন, মিরপুর ২ নম্বরে একজন, মিরপুর ৬ নম্বরে ছয়জন, মিরপুর ১০ নম্বরে দশজন, মিরপুর ১১ নম্বরে ২৩ জন, মিরপুর ১২ নম্বরে ১৪ জন, মিরপুর ১৩ নস্বরে তিনজন, মিরপুর ১৪ নম্বরে ৩৬ জন,পল্লবীতে দুইজন, পীরেরবাগে তিনজন, টোলারবাগে ১৯ জন, কাজীপাড়ায় ছয়জন, শেওড়াপাড়ায় চারজন ও মণিপুরে একজন রয়েছেন।

শতাধিক রোগী যাত্রাবাড়ী এলাকায়
শতাধিক করোনা রোগী রয়েছে যাত্রাবাড়ী ও এর আশপাশের এলাকায়। এর মধ্যে শুধু যাত্রাবাড়ীতেই রয়েছে ৬৭ জন। এছাড়া ডেমরায় আটজন, জুরাইনে ২২ জন, মাদারটেকে একজন, মাতুয়াইল চারজন, মীরহাজারীবাগে দুইজন, দনিয়ায় একজন, রায়েরবাগে একজন, সায়েদাবাদে চারজন, শ্যামপুরে একজন ও শনির আখড়ায় ছয়জন।

রোগী বাড়ছে না বাসাবোয়
প্রথমদিকে রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী ছিলো বাসাবো এলাকায়। তবে সঠিক সময়ে এলাকাবাসী দায়িত্ব নিয়ে এলাকা লকডাউন করে দেয়। পরে সরকারিভাবেও এলাকাটি লকডাউন করা হয়। যার ফলে বাসাবোয় করোনা রোগী হার কমেছে। এখন পর্যন্ত এ এলাকায় ২৪ জন করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে।

একজন করে রোগী যেসব এলাকায়
রাজধানীর দেড়শতাধিক এলাকায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। যার মধ্যে অনেক এলাকাতেই একজন করে রোগীর সন্ধান মিলেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে বিজয়নগর, বেগুনবাড়িতে, মিরপুর বেরিবাঁধ, আশকোনা, বনশ্রী, বছিলা, বুয়েট এলাকা, দক্ষিণখান, ঢাকেশ্বরী, গোলারটেক, কাঠালবাগান, কচুক্ষেত, খিলক্ষেত, কুড়িল, মানিকদি, মোহনপুর, মুগদা, নবাবপুর, নিকুঞ্জ, রসূলপুর, সায়েন্স ল্যাব, শেখেরটেক, তেজকুনিপাড়া ও ভাটারা।

অন্যান্য এলাকার মধ্যে আদাবরে ছয়জন, আগারগাঁওয়ে ১১ জন, আমলাপাড়া দুইজন, আজিমপুরে ১৭ জন, বাড্ডা ১৭ জন, বেইলি রোডে তিনজন, বারিধারায় সাতজন, বনানীতে নয়জন, বাংলামোটরে দুইজন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকায় পাঁচজন, সেন্ট্রাল রোডে দুইজন, ধানমণ্ডি এলাকায় ৩১ জন, দয়াগঞ্জে দুইজন, এলিফ্যান্ট রোডে চারজন, ইস্কাটনে নয়জন, ফকিরপুলে দুইজন, ফার্মগেটে তিনজন, গোরানে তিনজন, গোপীবাগে আটজন, গ্রিন রোডে ১২ জন, গুলিস্তানে ছয়জন, গুলশানে ২২ জন, হাতিরঝিলে একজন, হাতিরপুলে তিনজন, হাজারীবাগে ২৪ জন, ইব্রাহিমপুরে দুইজন, ইসলামবাগে দুইজন, জেলগেটে দুইজন, ঝিগাতলায় ছয়জন, কল্যাণপুরে ছয়জন, কলাবাগানে পাঁচজন, কাকরাইলে ৩৩ জন, কমলাপুরে দুইজন, কামরাঙ্গীরচরে সাতজন, কারওয়ানবাজারে চারজন, খিলগাঁওয়ে ১৯ জন, মালিটোলায় চারজন, মালিবাগে ১৩ জন, মানিকনগরে দুইজন, মগবাজারে ২৫ জন, মহাখালীতে ৩৮ জন, মোহাম্মদপুরে ৫৪ জন, মতিঝিলে দুইজন, নবাবগঞ্জে চারজন, নীলক্ষেতে তিনজন, নাখালপাড়ায় নয়জন, পুরান পল্টনে ২৭ জন, রামপুরায় ১৩ জন, রমনায় সাতজন, রাজাবাজারে দুইজন, রায়েরবাজারে চারজন, সবুজবাগে চারজন, শাহজাহানপুরে ছয়জন, সেগুনবাগিচায় দুইজন, শাহআলীবাগ এলাকায় দুইজন, শাহবাগে ৩৪ জন, শান্তিবাগে তিনজন, শান্তিনগরে ১৩ জন, শ্যামলীতে ১১ জন, সিদ্ধেশ্বরীতে চারজন, স্বামীবাগে ৩১ জন, শেরে বাংলা নগর এলাকায় ছয়জন, টিকাটুলী ১৪ জন, তেজগাঁওয়ে ৩৬ জন, তেজতুরিবাজারে চারজন এবং উত্তরায় ৩৩ জন করে করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© 2020 সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আলোরদেশ লিমিটেড। এই সাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া কপি করা বেআইনি।
প্রযুক্তি সহযোগিতায়ঃ UltraHostBD.Com
RtRaselBD