মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
এক বিন্দু অক্সিজেন মানুষকে বাঁচাবে, এক টুকরো স্বপ্ন শিশুকে বাঁচাবে ! শৈশব পেড়িয়ে কৈশোর দেখিনি, কালকে আমার বিয়ে! শোকের মাসে জবি সাংবাদিকদের নির্বাচন, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কার্যক্রমে ফলাফল স্থগিত বামনায় সাংবাদিকদের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ চরাঞ্চল ঘুরে করোনা টিকার ফ্রি নিবন্ধন করাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান চরফ্যাশনে যুবককে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ তৃতীয় দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরেছে জবি শিক্ষার্থীরা “সেরা রাঁধুনীতে ফাষ্ট রানার্স আপ নাদিয়া নাতাশা” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে করোনা মোকাবিলায় মোদির মন্ত্রিসভায় রদবদল, শপথ নিলেন ৪৩ মন্ত্রী

জাবির আন্দোলন : দুর্নীতি প্রমাণের দায়িত্ব অভিযুক্তের নাকি অভিযোগকারীর

আলোরদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

আলোর দেশ, ঢাকা :

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারীদের এক হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবারএক অনুষ্ঠানে বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে অসত্য অভিযোগ তুলে আন্দোলন করে ক্লাস বন্ধ রাখার জন্য তাদের শাস্তি পেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে তাদের সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত সংকলন করেছেন। তথ্যগুলো শিক্ষামন্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যানের কাছে দেবেন বলে তারা জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তারা তথ্য উপাত্ত দিলেও অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব সরকারের বলে তারা মনে করছেন।

কিন্তু দুর্নীতির কোন অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণের দায়িত্ব আসলে কার- অভিযুক্তের নাকি অভিযোগকারীর?

আন্দোলনকারীদের তথ্য উপাত্ত কিসের ভিত্তিতে :

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর থেকে তা নিয়ে গণমাধ্যমে যে সব খবর প্রকাশ হয়েছে, তা সংগ্রহ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনকারি শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

ঘটনাটিকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের টেলিফোন আলাপও সামাজিক মাধ্যমে কিছু প্রকাশ হয়েছিল। সেগুলোকেও আন্দোলনকারিরা তথ্য উপাত্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তারা প্রকাশিত বিষয়গুলোকেই তাদের অভিযোগের স্বপক্ষে তথ্য প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি অংশের আন্দোলনের মুখেও আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান উপাচার্যের পক্ষেই দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী আন্দোলনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন।

আন্দোলনরত একজন শিক্ষক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, অভিযোগের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব সরকারের বলে তারা মনে করছেন।

“আমরা বিষয়টার তদন্ত চেয়েছি বার বার। ৮০-৯০ এর দশকে বোফর্স কেলেঙ্কারির যে খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছিল, তার সূ্ত্রেই তদন্ত শুরু হয়েছিল। ফলে এখানে তদন্তের আগেই প্রমাণ দেয়ার বিষয় নেই। তবে আমরা যা জেনেছি, তাতো জানাবোই।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষার্থিরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে যেহেতু ছাত্রলীগের শীর্ষ দু’জন নেতাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, সেটাই দুর্নীতির এই অভিযোগের তদন্তের বড় ভিত্তি হতে পারে।

প্রমাণের দায়িত্ব অভিযুক্তের নাকি অভিযোগকারীর :

দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বিবিসিকে বলেন, এখানে অভিযুক্তকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে।

“যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে আইন অনুযায়ী তাকেই নির্দোষ প্রমাণের জন্য দায়িত্ব পালন করতে হবে।”তবে সরকার এসব বক্তব্য মানতে রাজি নয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলছিলেন, অভিযোগ প্রমাণের আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে বক্তব্য দেয়া বা কোন প্রচারণা চালানো আইন সম্মত নয়।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী দুদকের তদন্ত শেষে মামলা হলে তখন অভিযুক্তকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এর আগে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তথ্য উপাত্ত দিয়ে তা প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারীর ওপরই বর্তায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“দুদক প্রথমে অনুসন্ধান করবে। তাতে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পেলে তখন তারা তদন্ত করবে। সেই তদন্তে তথ্য প্রমাণ মিললে তখন মামলা করবে। এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার সময় অভিযোগকারীকেই তথ্য উপাত্ত দিয়ে অভিযোগের ভিত্তি প্রমাণ করতে হবে। ফলে অভিযোগকারীর দায়িত্ব থাকবে মামলা হওয়ার আগে অনুসন্ধান পর্যায়ে। আর মামলার পর তিনি যে নির্দোষ অভিযুক্তকে তা প্রমাণ করতে হয়।”

দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ তাদের এখতিয়ারে আসে না। ঘুষের বিষয় হলে দুদক নিজে থেকেই অনুসন্ধান করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© 2020 সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আলোরদেশ লিমিটেড। এই সাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া কপি করা বেআইনি।
প্রযুক্তি সহযোগিতায়ঃ UltraHostBD.Com
RtRaselBD